এডিস নামক মশার দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর (Dengue Fever) হয়ে থাকে। পৃথিবীর সকল দেশেই এই রোগ হয় তবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ইহা বেশী হয়। এক ধরনের মশা এই রোগের বাহক বলিয়া মনে করা হয়। একবার এই রোগ হইলে ৯-১২ মাসের মধ্যে আর হইতে দেখা যায় না। যে কোন বাড়ীতে যে কোন অবস্থায় এই রোগ হইতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
১। ডেঙ্গু জ্বরের উপ্তিকাল ৫-৭ দিন। প্রথমে ২/৩ দিন প্রবল জ্বর হয়, তারপর কয়েকদিন তাপ কম হয়।
২। সারা অঙ্গের গ্রন্থিসমূহে প্রবল ব্যথা হয়।
৩। শরীরে শীত শীত অনুভব করে এবং কম্প দিয়া জ্বর আসে। তীব্র মাথা ব্যথা হয়।
৪। বমি বমি ভাব হয় কিম্বা বমি হয়।
৫। শরীরে ও কোমরে তীব্র ব্যথা এই রোগের বিশেষ একটি লক্ষণ।
৬। জ্বরের তাপ ১০২° ডিগ্রীর উপর হয়।
৭। দ্বিতীয় বার জ্বরের সময় রোগীর হাত, পা ও বুকে এক ধরনের র্যাশ বাহির হয়।
৮। গলার গ্রন্থি ফুলিয়া যাইতে পারে।
৯। আরোগ্য লাভ করিবার পর রোগীর খুব দুর্বলতা থাকে।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরামর্শ
১) ব্যাথা বা জ্বরের জন্য Paracetamol জাতীয় ঔষধ খেতে হবে।
২) জ্বর শুরু হওয়ার ৩-৪ দিন পর থেকে রক্তের CBC (Complete Blood Count) পরীক্ষা করা উচিত। এর মাধ্যমে রক্তে প্লাটিলেট (Platelet) এবং হেমাটোক্রিট (Hematocrit)-এর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা ডেঙ্গুর তীব্রতা বুঝতে সাহায্য করে।
৩) ডেঙ্গু হলে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই রোগীকে পুরোপুরি বিছানায় বিশ্রামে (Bed rest) থাকতে হবে।
৪) ডেঙ্গুর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা। প্লাজমা লিকেজের কারণে রক্তে পানি কমে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার তরল খাবার খাওয়াতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:, খাবার স্যালাইন (ORS), ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ফলের রস, ভাতের মাড়, স্যুপ বা দুধ ইত্যাদি।
৫) ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সবসময় মশারি খাটিয়ে ভেতরে রাখতে হবে, যাতে তাকে কোনো এডিস মশা কামড়ে অন্য কোনো সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে না পারে।
৬) ডেঙ্গু রোগি বেশি দুর্বল হলে Normal Saline অথবা Dextrose স্যালাইন দেওয়া লাগতে পারে তায় রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য রেফার করা যেতে পারে।